ইংল্যান্ডের রানি ভিক্টোরিয়া যখন কুরআন শোনা শুরু করেন, আরবি হরফে লেখা শেখা শুরু করেন- তখন ব্রিটিশ সমাজে সবচে ভয়ানক দৈত্যের নাম ছিল ‘মোহামেডান' বা ‘মোহাম্মদী (মুসলিম) '। সবচে অস্পৃশ্য।
ভিক্টোরিয়া ইসলামের আলোকিত পাশটাকে ঠিকই উপলব্ধি করেছিলেন সাম্রাজ্যবাদের চৌষট্টি শিকে আবদ্ধ থেকেও। তুর্কি আলোকায়নের ধাক্কা তাঁর চোখও ধাঁধিয়েছিল।
কিন্তু তারও বহু আগে, ১, ৬০০ সাল শুরু হওয়ার আগে, ব্রিটিশরা সূর্য না ডোবার সাম্রাজ্য হওয়ার আগে টিকে যায় আরেক প্রবাদপ্রতীম রানি এলিজাবেথ মুসলিম খিলাফাতের সহায়তা নেয়ার মাধ্যমে।
রোমান ক্যাথলিক থেকেই জন্ম নেয়া প্রোটেস্ট্যান্ট।
ব্রিটিশ রাজপরিবার ১৫৩২ সাল থেকে প্রোটেস্ট্যান্ট। অষ্টম হেনরী থেকে শুরু করে আজ অবধি কারো ব্রিটেনের রাজা বা রানি হতে হলে অবশ্যই প্রোটেস্ট্যান্ট হতে হয় (রানি প্রথম মেরি ছাড়া) । এটা শর্ত। প্রোটেস্ট্যান্ট ক্রিশ্চানরা ঐতিহ্যগতভাবেই মূর্তির আরাধনা ও ছবির আরাধনাকে পরম গর্হিত কাজ মনে করতো। অপরদিকে খ্রিস্টায়নের আগে রোমান সভ্যতা যেমন ছিল মূর্তিবহুল, তেমনি রয়ে যায় খ্রিস্টায়নের পরও। আজো অনেকে ভ্যাটিকানকে বলেন মূর্তি ও ছবির জাদুঘর। রোমান ক্যাথলিকদের সাথে এই পার্থক্যটাকেই তুলে ধরেছিলেন এলিজাবেথ।
কার কাছে?
মুসলিম খলিফার কাছে।
হ্যা। হায় ইতিহাস! যে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য মুসলিম বিশ্বকে খলিফাশূণ্য করেছে জায়নবাদ ও সৌদ-সালাফিবাদ দিয়ে, সে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের রানিও সহায়তা চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছিল এই মুসলিম খলিফার কাছেই।
ব্রিটিশরা তো ব্রিটিশই। মানুষই বিস্মৃতিপরায়ণ।
এলিজাবেথ মুসলিম খলিফা তৃতীয় মুরাদকে সম্বোধন করেছিলেন, ‘পূর্ব সাম্রাজ্যের সবচেয়ে সার্বভৌম সম্রাট' হিসেবে। আর নিজেকে উপস্থাপন করেছিলেন, ‘খ্রিস্টিয় বিশ্বাসকে স-ক-ল ধরনের মূর্তিপূজা থেকে রক্ষা করার শক্তিশালী সংরক্ষক' হিসাবে।
ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বণিক সাম্রাজ্য। আর তাদের হাজার হাজার বাণিজ্য কাফেলা চলাচল করতো মুসলিম খিলাফাতের ভিতর দিয়ে। নিরাপদে। বছরের পর বছর। তাদের পায়ের তলার পাপোষ থেকে শুরু করে গায়ের জামাটা পর্যন্ত মুসলিম খিলাফাতের ভিতর দিয়ে যাতায়াতের মাধ্যমে টিকে যায়।
তখন উসমানিয়া খলিফা যদি নিশ্চয়তা না দিতেন, নির্ভার বাণিজ্য কাফেলার সুযোগ না দিতেন, তবে অবরোধকারী ক্যাথলিক রাষ্ট্রগুলো ব্রিটেনকে ছিড়েখুড়ে খেয়ে ফেলতো। এই আক্রমণটা পর্যন্ত তারা করতে পারেনি। কারণ তাদের ঘাড়ের উপর নি: শ্বাস ফেলছিল উসমানিয়া খিলাফাত। ব্রিটেন আক্রমণ করলে তোমরা আক্রান্ত হবে। সহজ স্বাভাবিক চাল।
আমরা মার্কিন-রুশ স্নায়ুযুদ্ধ জানি, ক্যাথলিক-মুসলিম স্নায়ুযুদ্ধের মাধ্যমে ব্রিটিশ শক্তির উত্থানের গল্প জানি না। আমাদের ইতিহাস আমাদের কাছে বিলুপ্ত রূপকথা।
ইতিহাস, বিজয়ীর হাতেই লিখিত হয়। যা থাকার থাকে, যা হারানোর, হারিয়ে যায়।
((help from Golam Dastagir Lisani))
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem