ভালোবাসি বা গালি দিই-
ফেসবুক কিন্তু আমাদের দৈনন্দিন জীবনে গভীর ভাবে মিশে যাচ্ছে। ফেসবুক পরিবৃত জীবনে, আমাদের কাছে এখন দুটো পথ-
১. এমন কিছু বন্ধু পরিবৃত হয়ে থাকা, যারা আমাদের চিন্তা শক্তিতে সুড়সুড়ি দিয়ে আমাদেরকে আরও বড় মানুষ করবে।
২. অথবা এমন কিছু বন্ধু পরিবৃত হয়ে থাকা, যারা হিংসে সমালোচনা তামাশা গসিপ আর গালাগালিতে আমাদেরকে ইন্ধন যুগিয়ে, আমাদেরকে আরও হীন আর ছোট করে দেবে।
ভাঁড়ার ঘরে গাজর তুলতে চাইলে, তোমাকে গাজর চাষ করতে হবে।মূলোর চাষ করবে, অথচ ঘরে তুমি গাজর তুলতে চাইবে, তা বাপু ঘটবে কেন?
যারা তোমার বিপরীত চিন্তা করে, তাদের থেকেই তুমি বেশি শিখবে। কেন? কারন তুমি যা জানো, তা তো জানোই।কিন্তু নতুন কিছু শিখতে হলে, তোমাকে পৃথিবীটাকে
উল্টো দিক থেকেও দেখতে হবে।
যাদের বিপরীত চিন্তাধারা- অরুণ মাজীর মস্তিস্কে কাঁকড়া বিছে ছেড়ে দেয়, বা যাদের চ্যালেঞ্জ- অরুণ মাজীর ময়লা আন্ডারপ্যান্টে বিষাক্ত কেউটে ছেড়ে দেয়, অরুণ মাজী তাদেরকে হৃদয়ভরে পূজা করে। তারা অরুণ মাজীর পূজ্য দেবতা।
যে জাতি কেবল এক বিশ্বাস এক সংস্কারকে আঁকড়ে ধরে, এবং বিপরীত বিশ্বাস আর সংস্কৃতিকে ঘৃণা করে, বা জানতে চায় না, বা শ্রদ্ধা করে না, সেই জাতি দিন দিন আরও বেশি অন্ধকারে ডুবে যাবে। ভারতীয় উপমহাদেশের সব দেশেই, কম বেশি আজ এই অধঃপতন ঘটছে।
আমাদের পূর্বপুরুষ আর্যভট্ট বৃহঃস্পতিকে বগলদাবা করে সূর্যের সাথে হুঁকো খেতেন। সুশ্রুত সার্জারির এমন সব পদ্ধতি হাজার হাজার বছর আগে লিখে গেছেন, যা আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান- ১৫০০ খ্রিস্টাব্দের আগে পর্য্যন্ত আবিষ্কার করতে পারে নি। আগে সারা পৃথিবী, প্রাচীন ভারতবর্ষে আসতো শিক্ষালাভ করার জন্য। অথচ আজ? আজ, আমরা ছুটছি আমেরিকা ব্রিটেন অস্ট্রেলিয়া। কেন?
কেন আমরা দরিদ্র্য নিরীহ নারীকে, ডাইনী অপবাদ দিয়ে নৃশংস ভাবে খুন করছি? কেন আমাদের ভোঁদড় নেতারা, আজও জাতপাতের রাজনীতি করেন? কেন আমাদের বিকলাঙ্গ মস্তিস্কের নেতারা, বা সংস্কারগ্রস্ত ছারপোকা পন্ডিতরা- ১. ধর্ষণকে ছোট্ট ঘটনা বলেন? ২. বা মিনি স্কার্টের কারনেই ধর্ষণ- এই যুক্তি খাড়া করেন? ভারতীয় হিসেবে আমাদেরকে কিন্তু এসব প্রশ্ন করতেই হবে?
তবে সাবধান! আত্মসমালোচনা তুমি করতেই পারো। তবে নিজের দেশ আর সংস্কৃতিকে অশ্রদ্ধা করে নয়। দেশ আর সংস্কৃতিকে ঘৃণা করে নয়। দেশের কোন দুঃখজনক ঘটনাকে নিয়ে, নিছক রাজনীতির করার জন্য নয়।
আমি নিঃশব্দে পর্য্যবেক্ষণ করি, ভারতজুড়ে "কিছু শিক্ষিত মানুষ" আছেন যারা নিজেদেরকে LIBERAL, SOCIALIST, COMMUNIST, SECULAR ইত্যাদি বলেন। দুঃখ এই যে, তারাওকেবল হিমালয়ের এক পিঠ দেখেন, অন্য পিঠ নয়। এরা ISIS উগ্রবাদীদের চেয়ে কোন অংশে, কম সংস্কারগ্রস্ত নন। এরাও ধর্মীয় মৌলবাদীদের মতো ঘোমটার নীচে খ্যামটা নাচ নাচেন। এরাও ধর্মীয় মৌলবাদীদের মতো একই রকম অন্ধ (এদের রাজনৈতিক বিশ্বাস আর আনুগত্য, এদেরকে অন্ধ করে রেখেছে) । ধর্মীয় মৌলবাদীরা "পুরানো ছেঁড়া চটের" নীচে খ্যামটা নাচ নাচেন। আর আজকেরLIBERAL, SOCIALIST, COMMUNIST, SECULAR ইত্যাদিরা "ফিনফিনে সিল্কের" নীচে খ্যামটা নাচ নাচেন । ফিনফিনে বলে, সহজে দেখা যায় না। কিন্তু দেখা যায়। কেউ দেখুক না দেখুক, হারামজাদা অরুণ মাজী তা দেখতে পাবেই। এবং অরুণ মাজী তাদের কাঁছা টেনে, তাদেরকেও চরম উলঙ্গ করবে। শুধু আমি নই, তোমাদের মতো দাদা আর ভাইরাও কিন্তু তাই করবে।
তার মানে এই নয় যে প্রকৃত মুক্ত মনা মানুষ নেই। আছে। অনেক আছে। তাদেরকে আমার প্রণাম।
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem