ঘুড়ি Poem by Madhabi Banerjee

ঘুড়ি

ছেলেবেলায় ঘুড়ি ওড়ানো ছিল আমার এক প্রিয় খেলা।
কত রংবেরং-এর ঘুড়ি-লাটাই। কত নাম ঘুড়ির ঘয়লা, পেটকাট্টি ।
সাবু আর কাঁচের গুড়ো দিয়ে মাঞ্জা দেওয়া।
দাদা ঘুড়ি ওড়ায় অতএব আমিও ঘুড়ি ওড়াবো ।আমারও চাই ঘুড়ি।
মা দাদাকে ঘুড়ি কেনার পয়সা দিত আমাকে দিত না।
আমি তো মেয়ে। কিন্তু আমি দমবার পাত্র নই।
খবরের কাগজ, ঝাঁটার কাঠি, আর ভাত হ'ল আঠা এই দিয়ে ঘুড়ি বানালাম।
মায়ের সেলাই বাক্স থেকে সাদা সূতার রীল নিয়ে ঘুড়ির কল বানালাম, কান্নিক দিলাম,
কাগজ জোড়া দিয়ে ঘুড়ির লেজ তৈরী করলাম,
কুল গাছের একটুকরো ডাল দিয়ে লাটাইও বানালাম।
তারপর খেলার সাথীদের নিয়ে মাঠে গেলাম ঘুড়ি ওড়াতে।
কিন্তু দাদার ঘুড়ির মতো আমার ঘুড়ি তো আকাশে উড়লই না।
তখন আমি সূতো ধরে মাঠের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত দৌড়তে লাগলাম
এর ফলে আমার বানানো ঘুড়িটি আমার উচ্চ্তার বেশী উচুঁতে উঠত না।
একদিন দাদাকে বললাম ‘আমাকে একটা ঘুড়ি দিলে
তোর সূতোতে মাঞ্জা দেওয়ার সময় টিপ ধরবো
আর ঘুড়ি ওড়াবার সময় লাটাইও ধরবো'।
সন্তুষ্ট হয়ে দাদা আমাকে একটা পেটকাট্টি ঘুড়ি দিয়েছিল।
কিন্তু তখন আমি সে ঘুড়িটিও আকাশে ওড়াতে পারিনি।
বয়স যখন বেড়েছে বারো কি তেরো হবে তখন
টিফিনের পয়সা দিয়ে ঘুড়ি লাটাই কিনে আকাশে ঘুড়ি উড়িয়েছি
অন্যদের সাথে প্যাঁচ খেলেছি।
মা ঠাকুমা কাকিমারা বলতো ভগবান নাকি আমাকে ভুল করে মেয়ে তৈরী করেছে।
মেয়েরা কি ঘুড়ি ওড়ায় ডাংগুলি খেলে? এসব ওদের ডিকসেনারীতে ছিল না।
এরপর আমার বড় হওয়ার সাথে সাথে পরিবেশ পরিস্থিতি পাল্টে গেছে।
খেলার মতো মাঠ, ফাঁকা জায়গা কমে গেছে। আমার আর ঘুড়ি ওড়ানো হয়ে ওঠেনি।
এ সমাজের মেয়ে আমি। এখন আমিইএকটি ঘুড়ি।
অন্যের হাতের লাটাই আর সূতোর টানে আমার আকাশে ওড়া।
ওদের হাতের কৌশলে কখনো ধপাস করে মাটিতে পড়ে যাই।
কখনো আবার আকাশে উড়ি।
আজ জীবনের এ পর্য্যায় এসে অনুভব করি উপলব্ধি করি,
অদৃশ্য নিয়তির হাতের লাটাই আর সূতোর টানে
আমরা ঘুড়ি হয়ে উড়ে চলেছি অবিরত-কখনো ঘয়লা কখনো পেটকাট্টি।
কখন সূতোটি ভোকাট্টা হবে উড়ে যাব অনন্ত নীলিমায় মেঘের আড়ালে।

COMMENTS OF THE POEM
READ THIS POEM IN OTHER LANGUAGES
Madhabi Banerjee

Madhabi Banerjee

allahabad
Close
Error Success