উন্মাদ অরুণ মাজীর চোখে অসহায় দুধের বাচ্চাদের আত্মহত্যা (On Suicide) Poem by Arun Maji

উন্মাদ অরুণ মাজীর চোখে অসহায় দুধের বাচ্চাদের আত্মহত্যা (On Suicide)

Rating: 5.0

ধরো কলকাতাতে আজ কাঠফাটা গরম। আর তাতে তুমি সাইবেরিয়া ভ্রমণের জন্য তৈরী করা, উলের লম্বা জ্যাকেট আর টুপি পড়ে ঘুড়ছো।
বা ধরো কাশ্মীরে আজ কনকনে শীত। আর তাতে তুমি বিকিনি আর সান গ্লাস পরে ঘুড়ছো। তো কি হবে? তোমার ভয়ঙ্কর কষ্ট হবে। কেন? যেমন আবহাওয়া, তেমন তার পোশাক হওয়া দরকার।

গ্রামে, আমার অঙ্কের মাস্টার আমাকে প্রায়ই বলতো- "লামার দেশে তোকে লামা সাজতে হবে। লামার দেশে তোর গামা সাজলে চলবে কেন? "

পৃথিবীটা, কানামাছি ভোঁ ভোঁ খেলতে খেলতে, বনবন করে ঘুরছে। মুখপোড়া সময় মানুষকে ভেংচি কাটতে কাটতে, সামনের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। তুমি যদি অতীতের হুঁকোতে বুঁদ হয়ে থাকো, তো সময় কি তোমার জন্য অপেক্ষা করবে? করবে না। সময়ের সঙ্গে তুমি যদি পা মেলাতে না পারো, তুমি রগড়ে রগড়ে মরবে।

আবার একটা কিশোর আত্মহত্যা করলো। কয়েকদিন আগে একটা কিশোরীও আত্মহত্যা করলো। আজকাল ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের আত্মহত্যার ঢল নেমেছে। আর আমরা কি করছি? আমরা কেবল কিশোর আর কিশোরীদেরকে "বখাটে অসভ্য বলে গালি করছি।" বেশ, তা না হয় তুমি করলে। কিন্তু তাতে কি তুমি, এই কচি শিশুদের আত্মহত্যা ঠেকাতে পেরেছো? পারো নি। কেন পারো নি?

মূর্খরা যদি পন্ডিত হওয়ার ভান করে, তাহলে- তা মানব জাতিকে ধ্বংস করার পক্ষে যথেষ্ট। আজকাল ঘটছেও তাই। মূর্খ গোঁয়ার দেশের রাজা, সেও পন্ডিত সাজতে গলায় ডি লিট্ ঝুলিয়েছে। ইঁদুর বাচ্চার দল, তারাও লিপস্টিক আর পাউডার মেখে, সুশীল সমাজের কেউকেটা হয়ে, টিভিতে লম্বা চওড়া ভাষণ দিচ্ছে। তো ফল কি? প্রতিদিন আমরা শিশুর আত্মহত্যা দেখছি।

সমস্যাটা কোথায়? সমস্যাটা আর কিছু নয়। মা বাবার সাথে, ছেলে মেয়ের অন্তরের কোন যোগাযোগ নেই। বাবা মা যদি ১০০ মেগা হার্জ তরঙ্গের, তো ছেলে মেয়ে আজকাল ১০, ০০০ মেগা হার্জ তরঙ্গের। ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া, সোশ্যাল মিডিয়ার উপর ভর করে, আজকের শিশুরাও; অল্প বয়সে অ্যাডাল্ট বিহেভিয়ার অর্জন করছে। অপ্রাপ্ত বয়সে, কিশোরদের এই প্রাপ্ত বয়স্ক সুলভ আচরণ- ঠিক কি ভুল, তা নিয়ে তোমাদের চুনকালি মাখা, টিকিওয়ালা পন্ডিতরা আজীবন ধরে তর্ক করবে। কিন্তুউন্মাদ অরুণ মাজী তা করবে না। কেন?

যা কিছু ভবিতব্য, তাকে অস্বীকার করার মধ্যে, উন্মাদ অরুণ মাজী মানুষের কোন কল্যাণ দেখে না। তোমরা আগামী সহস্র বছর ধরে, ঠিক আর ভুল বিচার করতে থাকো। আর অসহায় এই শিশুরা প্রতিদিন আত্মহত্যা করতে থাকুক। বাহঃ কি সাংঘাতিক তোমাদের বুদ্ধির নমুনা!

মানুষের কল্যাণ তাহলে কোথায়? মানুষের কল্যাণ হলো- আমার মাস্টার মশায়ের সেই বাণী- "লামার দেশে লামা, গামার দেশে গামা।" কন্নড় মিউজিকের সাথে ভারতনাট্যম নাচ। কিন্তু হিপহপের সাথে ব্রেক ড্যান্স। যেমন সুর তেমন নাচ। যেমন সময়, তেমন আমাদের আচরণ হতে হবে।

আজকের কিশোর কিশোরীকে তোমরা যদি, তিন মাস বয়সের শিশুর মতো ট্রিট করতে থাকো, তাহলে- কিশোর-কিশোরীদের আত্মহত্যা উত্তরোত্তর বাড়তে থাকবে। কেন? কারন- তোমাদের ছেলে মেয়ে কখনোই তাদের গোপন যন্ত্রণার কথা, তোমাদেরকে মুখ ফুটে বলবে না। তারা নিজেদেরকে এমনই হতভাগ্য আর অসহায় ভাববে, যে তারা তাদের গোপন যন্ত্রণার কথা, তাদের বাবা মাকেও শোনাতে পারবে না।

চোখ বুজো আর ভাবো। কি নিদারুন তাদের যন্ত্রণা! তারা যন্ত্রণায় ফেটে যাচ্ছে। অথচ তারা তাদের যন্ত্রণার কথা তোমাকে মুখ ফুটে বলতে পারছে না। অনশেষে একদিন তারা মৃত্যুকে একমাত্র আপন ভেবে, মৃত্যুকে বেছে নেবে। এসব ঘটলো কেন? কারন- তুমি একটা কেউকেটা নীতিবাগীশ বাবা মা সাজতে চেয়েছো। নীতি বাগীশ সেজে তুমি কি অর্জন করলে? তোমার কোলে, তোমার অতি প্রিয় "মৃত সন্তান"।

অথচ দেখো- তোমাদের হারামজাদা মূর্খ পন্ডিতরা, এখনো এঁড়ে গরুর মতো সবজান্তা সেজে তর্ক করে যাচ্ছে। এখনো হারামজাদারা শ্লীলতা আর অশ্লীলতা খুঁজে বেড়াচ্ছে। শিশুরা মরছে, তবুও শুয়োরের উদর জাত, হারামজাদা পন্ডিতরা শ্লীলতা আর অশ্লীলতা খুঁজে বেড়াচ্ছে। যে জ্ঞান আর ধর্ম, শিশুর প্রাণ রক্ষা করতে পারে না, সে কিসের ধর্ম? কিসের জ্ঞান? তোমাদের এমন জ্ঞানে, ছারপোকা বাচ্চা শুঁশু করুক।

শিশুকেও সন্মান করো। কেবল ভালোবাসলেই চলবে না। তাকে মানুষ হিসেবে সন্মান করতে হবে। সিডনিতে, আমার কাছে যখন কোন বাবা মা, তার দশ বছরের বাচ্চাকে নিয়ে আসে, আমি সেই বাবা বা মাকে বলি- "কিছু মনে করবেন না, আমি আপনার মেয়ের সাথে একটু কথা বলবো। আপনি প্লিজ দশ মিনিটের জন্য, বাইরে বেড়িয়ে যান।"

বাবা মা বাইরে বেরিয়ে গেলে, আমি মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করি, এমন কিছু, সে কি বলতে চায়- যা সে তার বাবা মা থাকার কারনে বলতে পারে নি। ১০০ ভাগ সময়ে আমি নতুন তথ্য আদায় করতে পারি। এবং সেই তথ্য, সেই মেয়েটির চিকিৎসার জন্য, ভীষণই অপরিহার্য্য। ১০০ হার্জ ফ্রীকোয়েন্সির সাথে১০০ হার্জ ফ্রীকোয়েন্সির সংযোগ ঘটে।১০০ হার্জে ফ্রীকোয়েন্সির সাথে১০, ০০০ হার্জ ফ্রীকোয়েন্সির সংযোগ কখনো ঘটে না।

তুমি যদি প্রাপ্ত বয়স্ক, তো তোমার ছেলে মেয়েকেও প্রাপ্ত বয়স্কের মতো সন্মান করো। দেখবে- তাদের সাথে তুমি অনেক সহজে মিশতে পারবে। তাদের অনেক সমস্যার সমাধান তুমি অনেক সহজে করতে পারবে।

© অরুণ মাজী
Painting: JWG

উন্মাদ অরুণ মাজীর চোখে অসহায় দুধের বাচ্চাদের আত্মহত্যা (On Suicide)
Thursday, July 12, 2018
Topic(s) of this poem: children,suicide
COMMENTS OF THE POEM
Sudipta Sarkar 13 July 2018

সত্যিই কি বুক ফাঁটা যন্ত্রণা, যার হয় সেই বোঝে। এর শেষ দেখে ছাড়বো, লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি যাবো।

0 0 Reply
READ THIS POEM IN OTHER LANGUAGES
Close
Error Success